আগন্তুক pdf বই ডাউনলোড

44

আগন্তুক pdf বই ডাউনলোড। আমাদের বাড়ির পুকুরটা ভরতি ছিলো কচুরিপানায়। আমরা কি করতাম জানো? টাপা নিয়ে- টাপা চেনো তো, ওই ধামার মতো আর কি – টাপা বা ধামা কোনোটাই চেনার কোনো লক্ষণ শ্রোতার এক্সপ্রেশনে দেখতে না পেয়ে বক্তা এবার হাত দিয়ে বোঝাবার চেষ্টা করে জিনিসটা কি রকম – বাঁশের তৈরী বুঝেছো, মুরগি ঢেকে রাখতো। বাড়ির পুকুর থেকে টাপা ও ধামা হয়ে মুরগিতে এসে ঠেকলে বর্ণনাটি ঠিক কোনদিকে টার্ন নেবে ঠাহর করা যায়না । তবে ভরসার কথা, অচিরেই আবার বাড়ির পুকুর ফিরে আসে ।

– তো, আমরা ওই টাপা দিয়ে হাঁটু বা
কোমর পানিতে নেমে কচুরিপানা তুলতাম। তারপর ডাঙ্গায় এনে কচুরিপানাগুলো ফেলে দিলে দেখা যেত, অনেকগুলো কৈ মাছ খলবল খলবল করছে। ইয়া বড়ো বড়ো। আর এগুলো- পাতের থেকে কৈ মাছ তুলে নিয়ে সে বলে- এগুলো তো ওগুলোর বাচ্চা মাত্র।-

আরও দেখুনঃ প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ pdf বই ডাউনলোড

একটু অবিশ্বাসের ভাব মনের মধ্যে এলেও শান্তা মারিয়া, ওরফে শান্তা, স্বামী অঞ্জন হায়দার চৌধুরী, ওরফে, অঞ্জনকে তা বুঝতে না দিয়ে বিস্ময়ের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে- সত্যি? তুমি নিজের হাতে মাছ ধরেছো?- হ্যাঁ, শুধু আমি কেন, বুবু, আপুনি, আপা সবাই।-

অর্থাৎ তিন বোনের কথাও এসে গেলো। অবশ্য বাড়ির কথা যখন উঠে পড়েছে তখন ঘণ্টাখানেকের আগে এই প্রসঙ্গ শেষ হবে না ।  শান্তাকে আগ্রহ ভরে তা শুনতেও হবে। সব সময় শুনতে ভালো লাগে না, তবে ইয়া বড়ো বড়ো কৈ মাছ ধরার এই তথ্যটি নতুন। সম্ভবত আগে কখনো ব্যাপারটি মনে পড়েনি, এখন কৈ মাছ খেতে বসে প্রসঙ্গটি এসে পড়েছে।

আগন্তুক বই উপন্যাস কে লিখেছেন?

অঞ্জনের ভান্ডারে অবশ্য এ রকম অনেক গল্প এবং এক গল্প সে পারতপক্ষে দ্বিতীয়বার বলে না। একজন মানুষ যে তার গ্রাম নিয়ে এত কথা বলতে পারে, কাছ থেকে না দেখলে শান্তা কখনো তা বিশ্বাস করতো না। যেন তার সমস্ত কিছু জুড়ে আছে ওই গ্রাম। আশ্চর্য! বিয়ের ছ মাস যেতে না
যেতেই অন্তত হাজারখানেক গল্প শোনা হয়ে গেছে শান্তার। প্রথম প্রথম খুব মজা লাগতো। সব মেয়েই বোধ হয় স্বামীর শৈশব কৈশোরের গল্প শুনতে পছন্দ করে। শান্তার শ্বশুর-শাশুড়ী নেই।

এইসব গল্প তো শাশুড়ীদের কাছ থেকেই শোনা যায়- যতো বিরোধই থাক বউরা তাদের শাশুড়ীদের কাছ থেকে স্বামীর
ছোটবেলার গল্প খুব মনোযোগ দিয়েই শোনে- শান্তার ভাগ্যে সেটা নেই। বলার মধ্যে আছে ওই তিন বোন – তা, তারা তো সময়ই পায় না; নিজেদের সংসার নিয়েই মহা ব্যস্ত। সব অভাব তাই অঞ্জনকে একাই পূরণ করতে হচ্ছে । এক সময় অবশ্য একটু বিরক্তি তৈরী হয়েছিলো। অঞ্জনের বর্ণনা যতোই প্রাণবন্ত হোক, ওইসব
স্মৃতি তার কাছে যতই মধুর কিংবা গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন- শান্তার সঙ্গে তো তার কোনো সম্পর্ক নেই।

এ অনেকটা অচেনা বিয়ে বাড়ির ভিডিও বা স্থির চিত্র দেখার মতো। সেই ছবির প্রতিটি মানুষের অঙ্গভঙ্গি কি চালচলন কি কথাবার্তা পরিচিত একজনের কাছে যতই মজাদার মনে হোক না কেন, ওই বিয়ের সঙ্গে সংশি−ষ্ট নয় এমন কারো কাছে তার গুরুত্ব কোথায়? সে হয়তো সাজসজ্জা দেখে বর-কনেকে চিহ্নিত করতে পারবে, কিন্তু বরের শালী কি কনের দেবর কি শ্বশুর-শাশুড়ী কি আত্নীয়-স্বজনকে চিহ্নিত করার উপায় কি?

আরও দেখুনঃ পরিস্থান pdf বই ডাউনলোড

শান্তার অবস্থা অনেকটা এ রকমই। সেইসব স্মৃতির পাত্র-পাত্রীদের চেনা যাচ্ছে- যেমন, অঞ্জন বা তার বোনেরা- কিন্তু অন্য সবকিছুই তো অস্পষ্ট, ধোঁয়াটে- এমনকি ওদের বাড়িটা পর্যন্ত অচেনা, ওই বাড়িতে আজ পর্যন্ত যাওয়া হয়নি শান্তার; ফলে পুরো ব্যাপারটিই তাকে নিতে হয় কল্পনা করে। তাছাড়া, অঞ্জন আমেরিকায় ছিলো প্রায় ১২ বছর, অথচ সেখানকার গল্প করেছে সামান্যই; কিন্তু প্রতিদিনই দু চারটে করে গ্রামের গল্প না করলে তার চলে না।

আগন্তুক pdf উপন্যাস এর মূল কাহিনী

একবার শান্তা জিজ্ঞেস করেছিলো –
আচ্ছা, আমেরিকায় গিয়েও কি তুমি উদাসপুরের গল্প করতে? বিয়ের আগে তোমার এত গল্প শুনতো কে? না গল্প আর করতে পারতাম কোথায়! দু-চারজন যা বন্ধুবান্ধব জুটেছিলো, তাদের কাছে এগুলো বলাই যেত না। ধমক দিয়ে থামিয়ে দিতো।

আমেরিকা তো ওদের কাছে স্বর্গ। স্বর্গে গিয়ে কে আর পাড়াগাঁর গল্প শুনতে চায়! ওরা আমাকে ওখানকার সোসাইটির সঙ্গে অভ্যস্ত হতে বলতো। আমি আর তা পারলাম কই, শেষ পর্যন্ত
তো ফিরে আসতেই হলো… বলতে বলতে থেমে গিয়ে যেন হঠাৎ মনে এমন ভঙ্গিতে – কেন শান্তামণি
তোমার কি এসব শুনতে খারাপ লাগে? – করুণভাবে কথাটা জিজ্ঞেস করলে শান্তার ভারি খারাপ লাগে।

আহা, লোকটা গ্রামের কথা বলতে এত ভালোবসে, হয়তো এর পেছনে কোনো অজানা কারণ আছে, শুধু শুধু
কেন বিরক্তি প্রকাশ করলাম! ও তো আর অন্যায় কিছু করছে না! তাছাড়া অঞ্জনের কথা বলার ভঙ্গিটিও ভারি সুন্দর । খুব সাজিয়ে গুছিয়ে, অলংকার-টলংকার দিয়ে কথা বলে; যেন কোনো সুখপাঠ্য গল্প বা উপন্যাস পড়ে শোনাচ্ছে । ওর কথা কান পেতে শুনতে ইচ্ছে করে। সে দেখতে সুদর্শন, আবার মানুষ হিসেবেও খুব ভালো, উচ্চশিক্ষিত, প্রতিষ্ঠিত, স্বচ্ছল, রুচিশীল । সব মিলিয়ে সে তো স্বপ্ন-পুরুষের মতোই।

তাকে নিয়ে শান্তার তেমন কোনো অপূর্ণতা নেই । একজন মানুষ শুধু তার গ্রামের গল্প করে বলে, ফেলে আসা শৈশবে মগ্ন থাকে বলে বিরক্ত হওয়া অনুচিত । শান্তা তাই আর কোনোদিন বিরক্তি প্রকাশ করেনি, বরং আগ্রহই দেখিয়েছে। অঞ্জন যে কোনো কারণেই হোক এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করে । বোনরা এলেও সে একটা না একটা প্রসঙ্গ তুলবেই-

নিচে আগন্তুক pdf বই এর স্ক্রিনশট ও ডাউনলোড লিংক দেওয়া হলোঃ

আগন্তুক pdf বই ডাউনলোড

প্রকাশকঃ 
বইয়ের ধরণঃ উপন্যাস
বইয়ের সাইজঃ 1.01 MB
প্রকাশ সালঃ ইং
বইয়ের লেখকঃ আহমাদ মোস্তফা কামাল

ডাউনলোড সার্ভার-১ঃ Download Now

ডাউনলোড করতে কোন সমস্যা হলেঃ বই ডাউনলোড করতে কোন সমস্যা হলে অথবা নতুন কোন বইয়ের জন্য রিকুয়েস্ট করতে আমাদের Facebook Page অথবা Facebook Group এ জয়েন করুন